বাধ্যতামূলক মধ্যম প্রার্থনা (#8487)

* (এই প্রার্থনাটি প্রত্যহ প্রাতঃকালে, মধ্যাহ্ন (অপরাহ্নে) ও সন্ধ্যাকালে-এই তিন সময়ে আবৃত্তি করিতে হইবে। যে কেহ এই প্রার্থনা করিতে ইচ্ছা করে তাহাকে তাহার হস্তদ্বয় ধৌত করিতে হইবে এবং যখন সে হস্ত ধৌত করিবে তখন তাহাকে বলিতে হইবে-)
আমার হস্ত সবল কর, হে আমার ঈশ্বর, যেন ইহা তোমার গ্রন্থ এইরূপ দৃঢ়তার সহিত ধারণ করিতে পারে যে, পৃথিবীর সৈন্যবাহিনীও ইহার উপর কোন প্রতিরোধ শক্তি থাকিবে না। তৎপর ইহাকে রক্ষা কর যেন যাহার উপর ইহার কোন কর্তৃত্ব নাই তৎ সম্বন্ধে ইহা হস্তক্ষেপ করিতে না পারে। তুমি, সত্যই, সর্বশক্তিমান,পরম ক্ষমতাশালী
এরপর যখন সে তাহার মুখম-ল ধৌত করিবে তখন তাহাকে বলিতে হইবে-
“আমি তোমার দিকে আমার মুখমন্ডল ফিরাইয়াছি, হে আমার পরম প্রভু। তোমার পবিত্র আননের আলোকে ইহাকে আলোকিত কর। তৎপর ইহাকে রক্ষা কর, যেন তুমি ব্যতীত আর কাহারও দিকে ইহা নিজেকে ফিরাইতে না পারে।”
তৎপর তাহাকে উত্তর পশ্চিম কোণে মুখ ফিরাইয়া প্রার্থনার আসনে বসিয়া ৯৫(পঁচানব্বই) বার ‘আল্লাহু আব্হা ’ এই  শব্দটি আবৃত্তি করিতে হইবে।
তৎপর তাহাকে দাঁড়াইতে হইবে এবং উত্তর পশ্চিম কোণে মুখ ফিরাইয়া (অর্থ্যাৎ উপাসনা-কেন্দ্রে বা প্যালেষ্টাইনের অন্তর্গত আক্কা নগরীর বাহ্জীর পবিত্র সমাধি-সৌধের দিকে) আবৃত্তি করিতে ইহবেঃ
*‘‘ ঈশ্বর সাক্ষ্য দিতেছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। প্রত্যাদেশ ধর্মের ও সৃষ্টির রাজস্ব তাঁহারই। তিনিই বাস্তবিক তাঁহাকে প্রকাশিত করিয়াছেন যিনি ঐশী প্রকাশের উদয়-স্থল, যিনি সিনাই পর্বতোপরি কথোপকথনকারী, যাঁহার দ্বারা সর্বোচ্চ দিকমন্ডল আলোকিত করা হইয়াছে এবং সিদ্রা বৃক্ষ (লোত বৃক্ষ), যাহার সীমা অনতিক্রমনীয়-বাক্যোচ্চারণ করিয়াছে এবং তাঁহার মাধ্যমে স্বর্গ ও মর্তস্থ সকলের নিকট এই আহব্বান ধ্বনি ঘোষণা করা হইয়াছে, দেখ, সর্বাধিপতি আসিয়া গিয়াছেন। স্বর্গ ও মর্ত, প্রভা ও আধিপত্য, সকলই ঈশ্বরের জন্য, যিনি সকল মানবের পরম প্রভু এবং স্বর্গের সিংহাসনের ও মর্তের অধিপতি।’’
তৎপর হস্তদ্বয় জানুদ্বয়ের উপর স্থাপন করিয়া দেহ ও মস্তক অবনত করিবে এবং বলিবে :
“হে ঈশ্বর। তুমি আমার প্রশংসার ও আমি ব্যতীত অপর সকলেরও প্রশংসার উর্ধ্বে, গৌরবান্তিত এবং আমার বর্ণনা ও স্বর্গ-মর্তের সকলের বর্ণনার উর্ধ্বে পবিত্র।’’
তৎপর, খোলা হস্তদ্বয়ের সহিত দাঁড়াইয়া, করতলদ্বয় উর্ধ্বে মুখের দিকে স্থাপন করিয়া, তাহাকে বলিতে হইবে :
“হে আমার প্রভু। তুমি তাহাকে নিরাশ করিও না, যে মিনতিপূর্বক তোমার করুণার ও অনুকম্পার অঞ্চল আশার অঙ্গুলি দ্বারা জড়াইয়া ধরিয়া রহিয়াছে, হে সকল কৃপা প্রদর্শনকারীর মধ্যে পরম কৃপাময়।’’
তৎপর বসিয়া সে এই প্রার্থনা আবৃত্তি করিবে :
“আমি তোমার একত্বের ও তোমার অদ্বিতীয়ত্বের সাক্ষ্য প্রদান করিতেছি এবং আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, তুমিই প্রভু, তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই। তুমি, সত্য সত্যই, তোমার প্রত্যাদেশ ধর্ম অবতীর্ণ করিয়াছ এবং তোমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিয়াছ এবং স্বর্গ ও মর্তের সকল অধিবাসীর জন্য তোমার অনুকম্পার দ্বার সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছ। আশীষ ও শান্তি, অভিবাদন ও প্রভা, তোমার ঐ সকল বন্ধুদের উপর বর্ষিত হউক, যাহাদিগকে পার্থিব পরিবর্তন ও সম্ভাবনাদি তোমার দিকে অগ্রবর্তী হইতে নিবৃত্ত করিতে পারে নাই এবং যাহারা তোমার নিকট যাহা আছে তাহা পাইবার আশায়, তাহাদের যথাসর্বস্ব¦ দান করিয়াছে। তুমি সত্যই, চির ক্ষমাশীল সর্ব-বদান্যতাপূর্ণ।’’
যদি কেহ প্রার্থনায় দন্ডায়মান অবস্থায় সুদীর্ঘ প্রার্থনা-শ্লোক আবৃত্তি করার পরিবর্তে এই সংক্ষিপ্ত শ্লোকটি আবৃত্তি করে, তবে তাহার পক্ষে  তাহা যথেষ্ট হইবে :
 “ঈশ্বর সাক্ষ্য দিতেছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই, তিনি বিপদে সাহায্যকারী, চির সত্তাবিশিষ্ট।”
এবং এই প্রকারে যদি প্রার্থনাকালে শেষ উপবিষ্ট অবস্থায় এই সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা আবৃত্তি করে , তবে তাহার পক্ষে যথেষ্ট হইবে :
*‘‘আমি তোমার একত্বের ও অদ্বিতীয়ত্বের সাক্ষ্য দিতেছি এবং আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, তুমিই প্রভু, তুমি ব্যতীত অন্য উপাস্য নাই।’’

-Bahá'u'lláh
-----------------------

